বাংলাদেশের মানুষের সাথে মাছের সম্পর্ক যেন রক্তের টান। নদী-খাল-হ্রদ-সমুদ্র বেষ্টিত এই দেশে মাছ শুধু খাদ্য নয়, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ। আর এই মাছের সাথে জড়িয়ে আছে জেলেদের জীবন। যারা ভোরের আলো ফোটার আগেই নৌকা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন জলের বুকে, ঝুঁকি নেন সাগরের উত্তাল ঢেউয়ে, আর ফিরে আসেন আশা নিয়ে—আজ যেন ন্যায্য মূল্য মেলে।
বাংলাদেশের মৎস্য খাত দেশের জিডিপিতে ৫ শতাংশের বেশি অবদান রাখে এবং প্রায় ১৪০০ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই খাতের সাথে জড়িত প্রায় ১ কোটি ৭০০ লক্ষ মানুষ। কিন্তু যে হাতে মাছ ধরে, সেই হাতের রোজগার কত? যে সম্প্রদায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নদী ও সাগরকে বুকে করে বেঁচে আছে, তাদের জীবন আজ কতটা টিকিয়ে রাখার মতো?
এই নিবন্ধে আমরা বাংলাদেশের জেলেদের জীবনসংগ্রাম, তাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, বর্তমান সংকট এবং টিকে থাকার লড়াইয়ের গল্প বলব।
প্রথম অধ্যায়: জেলে সম্প্রদায়ের পরিচয় ও ইতিহাস
কারা এই জেলেরা?
বাংলাদেশের জেলে সম্প্রদায় মূলত দুই ধর্মীয় গোষ্ঠীতে বিভক্ত—হিন্দু ও মুসলিম। হিন্দু জেলেরা ঐতিহাসিকভাবে বর্ণপ্রথার সাথে জড়িত। হান্টার ও রিসলির গবেষণা অনুযায়ী, হিন্দু সমাজে জেলেরা সবচেয়ে নিচু বর্ণের মধ্যে পড়ত। অন্যদিকে মুসলিম জেলেরা 'মাহিফরোশ', 'দালাল', 'নিকারি', 'গুতিয়া জেলিয়া' প্রভৃতি পরিচয়ে পরিচিত।
হিন্দু জেলেরা তাদের পেশাকে পবিত্র মনে করেন। তাঁদের বিশ্বাস, ঈশ্বর তাদের মাছ ধরে অন্যদের খাদ্য যোগানোর পবিত্র দায়িত্ব দিয়েছেন। এই পেশা ছেড়ে অন্য কিছু করলে তা পাপ হবে—এই ধারণা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে।
নৌকাবাসী শোদাগর সম্প্রদায়
বাংলাদেশের জেলে সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি বিশেষ গোষ্ঠী হলো শোদাগর। এরা ঐতিহ্যগতভাবে নৌকায় বাস করে, নদীর বুকে ঘুরে বেড়ায়। ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইন্সটিটিউটের গবেষণা অনুযায়ী, শোদাগররা বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চলের নদী ও খালের ধারে বসবাস করে। এদের সংস্কৃতি স্থানীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
মেঘনা নদীর শাখা ধনাগোদা নদীতে বেশিরভাগ শোদাগর পরিবার বসবাস করে। অনেকে এখনো ছোট কাঠের নৌকায় থাকে, আবার অনেকে গত ৫-১০ বছরের মধ্যে স্থলভাগে উঠে এসে উঁচু বাড়িতে বাস করে। শোদাগর সমাজে নারী-পুরুষ উভয়েই মাছ ধরা ও ব্যবসায় অংশ নেন। ২০১৪ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, শোদাগর পুরুষদের ৯০ শতাংশ এবং নারীদের ৩৯ শতাংশ মাছ ধরা পেশায় যুক্ত ছিলেন।
দ্বিতীয় অধ্যায়: জীবিকার অনিশ্চয়তা—সংগ্রামের নিত্যদিনের গল্প
মৌসুমের সাথে লড়াই
বাংলাদেশের জেলেদের জীবন ঋতুর উপর নির্ভরশীল। সাতক্ষীরার শ্যামনগরের জেলেরা বছরে মাত্র ৫-৭ মাস মাছ ধরতে পারেন। বাকি সময় সরকারি নিষেধাজ্ঞা, প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করার কারণে কাজ থাকে না।
মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক সাদমান জুবায়ের খানের নেতৃত্বে ২০২৩ সালে সাতক্ষীরার ২১৯টি জেলে পরিবারের উপর জরিপ চালানো হয়। ফলাফল উদ্বেগজনক—জেলেদের জীবনযাত্রার দুর্বলতা সূচক (LIV) অত্যন্ত উচ্চ। অর্থাৎ, তাদের বর্তমান জীবনধারা মারাত্মক হুমকির মুখে।
মাছ ধরা নিষেধের সময় এরা ইটের ভাটায়, চিংড়ি খামারে বা কৃষিজমিতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। নারীরা এ সময় পুরুষের তুলনায় অনেক কম মজুরি পান।
ঋণের বোঝা ও দাদন ব্যবস্থা
উত্তরবঙ্গের তিস্তা নদীর জেলেদের গল্প আরেক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। রংপুরের হোকডাঙ্গা মাজিপাড়ার নিখিল চন্দ্রের জীবন বলছে বেদনার কাহিনী। কন্যার বিয়েতে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা যৌতুক দিতে গিয়ে তিনি বিক্রি করে দিয়েছেন নৌকা ও জাল। এখন তিনি খেটে খান অন্যদের জমিতে। তার মেয়ে স্বামীর বাড়ি থেকে ফিরে এসেছে, অপমানিত হয়ে।
"আমি যে জিনিসটা আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছিল, সেটাই ছেড়ে দিলাম মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য," বলেন নিখিল। এই গল্প শুধু নিখিলের নয়, রংপুর অঞ্চলের প্রায় ১ লাখ নিবন্ধিত জেলের।
জেলেরা প্রায়ই মাঝারি ব্যবসায়ীদের (নিকারি, আদতদার) কাছ থেকে দাদন বা সুদমুক্ত অগ্রিম টাকা নেন। বিনিময়ে তারা কম দামে মাছ দিতে বাধ্য হন। এই দাদন ব্যবস্থাই জেলেদের দারিদ্র্যের বৃত্তে আবদ্ধ রাখে।
তৃতীয় অধ্যায়: ইলিশ নিয়ে লড়াই—জাতীয় মাছ ও জাতির জেলে
ইলিশের গুরুত্ব
ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। এই একটি মাছই দেশের মোট মাছ আহরণের ১২ শতাংশ, যার বার্ষিক মূল্য প্রায় ৮১২৫ কোটি টাকা। ইলিশ ধরার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত প্রায় ৫ লক্ষ মানুষ, পরোক্ষভাবে আরও ২০-২৫ লক্ষ।
নিষেধাজ্ঞা ও ক্ষতিপূরণের দ্বন্দ্ব
ইলিশের প্রজনন মৌসুমে (সাধারণত অক্টোবরে ২২ দিন) মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সরকার নিবন্ধিত জেলেদের এই সময়ে প্রতি মাসে ৪০ কেজি চাল দিয়ে ক্ষতিপূরণ দেয়। কিন্তু এই চালের বাজারমূল্য প্রায় ২০০০ টাকা।
জেলে সংগঠনগুলো দাবি জানিয়েছে, এই ক্ষতিপূরণ মাসে ৮০০০ টাকা করা হোক। কারণ শুধু চালে সংসার চলে না—সন্তানের স্কুল ফি, চিকিৎসা, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে টাকা লাগে।
কক্সবাজারের জেলে মিজানুর রহমান বাহাদুরের ভাষায়, "কক্সবাজার সদরে প্রায় ৬ হাজার জেলে থাকলেও নিবন্ধিত মাত্র ২৫০০ জন। কেউই এখনো নিষেধাজ্ঞার সময় ভিজিএফ কার্ড পায়নি"।
ইলিশ উৎপাদন কমছে
সম্প্রতি উদ্বেগজনক সংবাদ—২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদন ৫,১২,০০০ টন, যা আগের বছরের তুলনায় কম। ২০২৫ সালের জুলাই-আগস্টে ইলিশ ধরা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৫ শতাংশ কমেছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তন এখানে বড় ভূমিকা রাখছে। সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়ছে, লবণাক্ততা বাড়ছে, যা ইলিশের জন্য প্রতিকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। বৃষ্টিপাত সঠিক সময়ে না হলে ইলিশ upstreamে ডিম পাড়তে আসে না"।
চতুর্থ অধ্যায়: জলবায়ু পরিবর্তনের আঘাত
নোনা পানির অভিশাপ
উপকূলীয় জেলেদের সবচেয়ে বড় শত্রু জলবায়ু পরিবর্তন। সাতক্ষীরার শ্যামনগরের জেলেদের গবেষণায় দেখা গেছে, চারপাশে পানি থাকা সত্ত্বেও ৪৪ শতাংশ পরিবার পানি কিনে খায়। কারণ স্থানীয় পানির উৎসগুলো লবণাক্ত বা নিরাপদ নয়।
ঘূর্ণিঝড়, ভাঙন ও বাস্তুচ্যুতি
সাতক্ষীরার প্রায় অর্ধেক পরিবার জানিয়েছে, জলবায়ুজনিত দুর্যোগের কারণে তাদের ঘর কমপক্ষে একবার সরাতে হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন—এসব তাদের জীবনের নিত্যসঙ্গী।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হারুনুর রশীদের মতে, "বর্তমানে বার্ষিক ইলিশ আহরণ ৫ লক্ষ টনের বেশি, কিন্তু টেকসই মাত্রা হওয়া উচিত ২.৫ থেকে ৩ লক্ষ টন। নদীতে মনিটরিং থাকলেও সমুদ্রে কার্যকর মনিটরিং নেই। অনেক ইলিশ ডিম পাড়ার আগেই ধরা পড়ে যায়"।
নদী মরে যাচ্ছে
উত্তরবঙ্গের জেলেদের অভিযোগ, নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। রংপুর বিভাগে একসময় ৩০০টির বেশি জলধারা ছিল। পঞ্চাশ বছরে বাঁধ, নগরায়ণ ও ভূমিদখলের কারণে ৫০টির বেশি নদী বিলুপ্ত হয়েছে।
তিস্তা নদীর জেলে বাবরের ভাষায়, "নদী আমাদের জীবন ছিল। এখন তা শুধু স্রোতহীন জলধারা। পানি কমে গেলে সব শেষ"।
পঞ্চম অধ্যায়: সংস্কৃতি, উৎসব ও জীবনধারা
ভাটিয়ালি ও সারি গান
জেলেদের সাথে বাঙালির সঙ্গীতের একটি বিশেষ সম্পর্ক আছে। ভাটিয়ালি ও সারি গানের সুর এই নৌকাবাসী মানুষেরাই তৈরি করেছেন। নদীর স্রোতের সাথে তাল মিলিয়ে গাওয়া এসব গানে উঠে আসে তাদের দৈনন্দিন জীবন, প্রেম-বিরহ, নদীর টান ও ফিরে আসার অপেক্ষা।
ধর্মীয় রীতিনীতি ও বিশ্বাস
জেলেদের ধর্মীয় জীবনও অনন্য। হিন্দু জেলেরা মা গঙ্গার পূজা করেন। তাঁদের বিশ্বাস, মা গঙ্গা শুধু ভালো মাছ ধরাতেই সাহায্য করেন না, নদীতে নিরাপদে রাখেনও।
মুসলিম জেলেরা মৌসুমের প্রথম জাল ফেলার আগে দরগায় শিরনি দেন, মিলাদ পড়ান। ধর্ম নির্বিশেষে, সব জেলেরই কিছু না কিছু রীতি আছে সাগর ও নদীকে তুষ্ট করার জন্য।
থাকুরগাঁওয়ের মাছ ধরার উৎসব
বাংলাদেশের জেলে সংস্কৃতির জীবন্ত উদাহরণ থাকুরগাঁওয়ের বড়ি বাঁধের মাছ ধরার উৎসব। ১৯৫১-৫২ সালে নির্মিত এই বাঁধের গেট খুলে দিলে হাজার হাজার মানুষ মাছ ধরতে নামেন।
২০২৫ সালের অক্টোবরে এই উৎসবে স্কুলশিক্ষক রফিকুল ইসলাম ভোরবেলা এসে প্রায় ৩ কেজি দেশি মাছ ধরেন। তাঁর মতো হাজারো মানুষ আনন্দে মেতে ওঠেন। জাল, ট্রলনেট, এমনকি হাত দিয়েও মাছ ধরা হয়।
এটি শুধু মাছ ধরার অনুষ্ঠান নয়, বরং গ্রামবাংলার চিরায়ত সংস্কৃতি, সম্প্রদায়ের মিলন ও আনন্দের উৎসব।
ষষ্ঠ অধ্যায়: চিংড়ি খাত—অন্য সম্ভাবনা, অন্য সংকট
ভানামেই চিংড়ির সম্ভাবনা
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে চিংড়ি চাষ দিনদিন বড় হচ্ছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ভানামেই চিংড়ি চাষে প্রতি হেক্টরে ফলন ১৫,০০০ কেজি, যেখানে দেশি বাগদা চিংড়ির ফলন মাত্র ৫০০ কেজি।
রপ্তানি প্রণোদনা বিভাগের পরিচালক জিনাত আরা আহমেদ জানান, সঠিক সরকারি সহায়তা ও বাধা দূর করতে পারলে আগামী বছরগুলিতে চিংড়ি খাত থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব।
নারীশ্রম ও কর্মসংস্থান
চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় কর্মরতদের বেশিরভাগই নারী। চেয়ারম্যান শেখ কামরুল আলম জানান, এই খাতে ৫০ লক্ষের বেশি মানুষ, বেশিরভাগ নারী, জড়িত। এই খাত একসময় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত ছিল।
তবে প্রশাসনিক জটিলতা ও ভানামেই চিংড়ি চাষের অনুমোদন পেতে দেরি হওয়ায় উৎপাদন কিছুটা পিছিয়ে গেছে।
সপ্তম অধ্যায়: করণীয় ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
নীতি সহায়তা প্রয়োজন
গবেষক সাদমান জুবায়ের খানের দল তাদের গবেষণায় কিছু সুপারিশ দিয়েছেন:
জেলেদের জন্য 'জেলে কার্ড' বা পরিচয়পত্রের সুবিধা নিশ্চিত করা
আয়ের উৎস বৈচিত্র্যের সুযোগ সৃষ্টি
বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা
স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনা জোরদার করা
সামাজিক সুরক্ষা জোরদারকরণ
ওয়ার্ল্ডফিশ সেন্টারের গবেষণা অনুযায়ী, ইলিশ নিষেধাজ্ঞার সময় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জেলেদের খাদ্য নিরাপত্তায় সহায়ক হলেও তা যথেষ্ট নয়। বাশির আহমেদের ভাষায়, "শুধু চালে মানুষ বাঁচে না। আমার সন্তানদের স্কুল ফি দিতে হবে। আমি চাই না তারা আমার মতো সাগরে জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। আমি চাই তাদের ভালো চাকরি, সম্মানজনক জীবন"।
নদী রক্ষা আন্দোলন
নদী রক্ষা কর্মী নজরুল ইসলাম হক্কানীর মতে, প্রতিবেশী দেশগুলোতে জেলেরা পানি কমার সময় মাছ চাষের প্রশিক্ষণ নেয়। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো পুরনো পদ্ধতিতেই আঁকড়ে আছেন জেলেরা।
ড. তুহিন ওয়াদুদ নদী রক্ষার জন্য পৃথক মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন।
উপসংহার
বাংলাদেশের জেলেরা শুধু মাছ ধরেন না, তাঁরা বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অর্থনীতির মেরুদণ্ড। তাঁদের হাত ধরেই ঘরে ঘরে পৌঁছায় ইলিশ, রুই, কাতল, চিংড়ি। তাঁদের গানেই বাজে ভাটিয়ালির সুর।
কিন্তু যে হাত দেশকে মাছ খাওয়ায়, সেই হাত আজ সহায়তার জন্য প্রসারিত। নিষেধাজ্ঞার সময় অনাহার, ঋণের বোঝা, নদী ও সাগরের দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের আঘাত—এসব যেন এক একটি প্রাচীর। জেলেরা দিনরাত সংগ্রাম করে যাচ্ছেন এই প্রাচীর ভাঙতে।
কক্সবাজারের জেলে ফরহাদের কথা মনে পড়ে, যিনি ১৭ বছর ধরে সাগরে মাছ ধরেন: "স্থলে কেউ বিপদে পড়লে সাহায্য আসে এক ডাকেই। কিন্তু এখানে সাগরের মাঝে সীমাহীন জলে—একবার বিপদে পড়লে ফেরার নিশ্চয়তা নেই"।
তবুও তিনি প্রতিদিন সাগরে যান। কারণ এটাই তাঁর জীবন, এটাই তাঁর ঐতিহ্য, এটাই তাঁর সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার একমাত্র পথ।
প্রয়োজন শুধু ন্যায্য মূল্য, সহজ ঋণ, কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা এবং নদী-সাগর রক্ষার কার্যকর উদ্যোগ। জেলেদের স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন—শুধু মৎস্য খাতের অবদান হিসেবে নয়, বরং দেশের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তি হিসেবে। তাহলেই হয়তো একদিন নিখিল চন্দ্রের মতো জেলেরা বলতে পারবেন, "নদী এখনো বেঁচে আছে, আমরাও বেঁচে আছি।"
Please login to comment
No comments yet. Be the first to comment!